Voice of 71 Voice of 71 Author
Title: বিদেশী সংবাদপত্রে ১৯৭১: ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনা: সংকট উত্তরণের আভাস
Author: Voice of 71
Rating 5 of 5 Des:
পত্রিকার নাম: দি টাইমস্ প্রকাশকাল: ২০ মার্চ, ১৯৭১ প্রতিবেদক: পিটার হ্যাজেলহার্স্ট অনুবাদ করেছেন: ফাহমিদুল হক শিরোনামঃ  ইয়াহিয়ার সঙ্গে আ...
পত্রিকার নাম: দি টাইমস্
প্রকাশকাল: ২০ মার্চ, ১৯৭১
প্রতিবেদক: পিটার হ্যাজেলহার্স্ট
অনুবাদ করেছেন: ফাহমিদুল হক
শিরোনামঃ  ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনা: সংকট উত্তরণের আভাস

করাচি, মার্চ ১৯। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান আজ ঢাকায় কয়েক দফায় আলোচনা শুরু করেছেন। দেশের সাংবিধানিক সংকটে তারা যে কট্টর অবস্থান নিয়েছিলেন, তা থেকে তারা কিছুটা নমনীয় হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে শেখের তিনজন উপদেষ্টা ড. কামাল হোসেন, মি. তাজউদ্দিন আহমদ ও মি. সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রেসিডেন্টের সহযোগীদের সঙ্গে আজ আলোচনায় বসবেন।

শেখ বলেছেন তিনি যখন আগামীকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবেন তখন তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ছয়জন সহযোগী থাকবেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মনে হয়েছে, মঙ্গলবার আলোচনা শুরু করার পর থেকে তাকে যেকেনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি শান্ত মনে হয়েছে। এদিকে করাচিত গত রাতে পিপলস্ পার্টির মি. জেড. এইচ. ভুট্টো সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি 'ঢাকায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থ নিয়ে আপস করা হয়' তবে তার দল পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্বের মতোই পশ্চিম পাকিস্তান অচল করে দেবে। এর আগে তিনি ঢাকায় প্রেসিডেন্ট ও শেখের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন তার দল পুরো পাকিস্তানের জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার 'রক্ষাকর্তা' এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের স্বার্থ ধুলিসাৎ করে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, 'যদি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সামর্থ্য পরীক্ষা নেয়া হয়ে থাকে, তবে এবার পশ্চিম পাকিস্তানের শক্তি প্রদর্শনের পালা'। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট মুজিবুরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব তিনটি থেকে মনে হচ্ছে কোনো প্রস্তাবই পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রথম প্রস্তাব অনুসারে উভয় অংশে প্রাদেশিক সরকারের হাতে মতা থাকবে এবং সেনাবাহিনী ততক্ষণ পর্যন্ত শাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না একটি সংবিধান প্রণীত হচ্ছে। শেখ এরকম কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান গ্রহণ করবেন না যাতে তার চূড়ান্ত স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থার কথা নেই। এই প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে ইয়াহিয়া উভয় অংশের নেতাদের কেন্দ্রে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন যা একটি সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক সরকারের তদারকিতে চলবে।

স্বায়ত্তশাসনের বিতর্ক এড়ানোর জন্য প্রেসিডেন্ট বলেছেন সংবিধান গঠন না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রাদেশিক সরকারও গঠিত হতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট দুই নেতাকে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করতে বলেছেন, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি তা করা হয় তবে প্রদেশে শিগগীরই মতা হস্তান্তর করা হবে। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিত এটা মনে হবে যে নেতারা এই মুখ-রক্ষার ফর্মুলায় তারা লাফ দিয়ে অবতীর্ণ হবেন, কিন্তু সমস্যা হলো তারা প্রস্তাবগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন।

শেখ উল্লেখ করেছেন তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারেন তখনই যখন অন্যান্য পূর্বশর্ত মেনে নেয়া হবে। কিন্তু শেখ পশ্চিম পাকিস্তানের ছোট দলগুলোর মধ্যে যারা তার দলের নীতিকে সমর্থন করেন তাদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার অনুরোধ জানাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। অন্যভাবে বলা যায় সেখানে ভুট্টো এবং তার পিপলস্ পার্টির কোনো স্থান থাকবে না (৩১৩টি আসনের মধ্যে তার ৮৪টি আসন রয়েছে)। এই ধরনের আয়োজনে পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের বিরোধী দলে থাকতে হবে। শেখকে তখন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান ও সিন্ধুর আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। এই ধরনের জোট-গঠন মি. ভুট্টো ও তার প্রদেশ পাঞ্জাবকে একাকী করে ফেলবে। এটা কোনো অবাক-করা কিছু নয় যে, মি. ভুট্টো এই প্রস্তাব মেনে নেন নি এবং উভয় অংশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ওপরে তিনি জোরারোপ করছেন । 

About Author

Advertisement

Post a Comment

 
Top